বিভাগ: বই / পত্রিকা

লোকসংস্কৃতির সাধনা

হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও সিনেমার কারণে বাউল গান, লোকগান বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাসন রাজা, বাউল শাহ আবদুল করিম, নেত্রকোণার উকিল মুন্সি জালালউদ্দিন খাঁর গান এখন সবার পরিচিত এবং প্রচুর মানুষের কাছে তা সমাদৃত। এক-দেড় দশক আগেও এটা কারো কল্পনার মধ্যে ছিল না। বাউল শিল্পীদের কদর এখন গ্রাম-গঞ্জ ছাড়িয়ে শহরের আধুনিক তরুণ-তরুণীদের কাছেও পৌঁছে গেছে। আমি ভেবে অবাক হই করপোরেট বিজ্ঞাপনে এখন লোকশিল্পী ও লোকগানের ব্যবহার হয়। কেন? কি শক্তি রয়েছে এর মধ্যে? (সম্পূর্ণ…)

সঙ অব আওয়ার সোয়্যাম্পল্যান্ড

বৈশ্বিক ভ্রমণসূত্রে কোনো ভাষা প্রয়োজনীয় বিচিত্র রত্ন আহরণ করতে পারে- বিভিন্ন দেশ থেকে, নানা জাতির সাংস্কৃতিক সত্যসার মথিত করে। বহিরাগত বেনিয়ার হাত রাজনৈতিকভাবে নিজের আস্তিনে সেঁধিয়ে গেলেও উপনিবেশোত্তর ভাষাচিন্তার ডালপালা মহাদেশ জুড়ে নতুন ছাপ্পর বসিয়ে দিয়েছে। এর সুফল হাত পেতে নিতে প্রাগ্রসর জাতি মাত্রই অকুণ্ঠিত। অথচ উপনিবেশিত ভারতের দুই শতকের ইতিহাস ঘেঁষে গড়ে-ওঠা একটি সার্বভৌম পরিম-লে, বাংলাদেশ-জাতিরাষ্ট্রে রক্ষণবাদী কথার ধুয়ো কিছুতেই উবে যাচ্ছে না।

প্রযুক্তির সঙ্গে বাণিজ্যের দেন-দরবার বেড়ে যাওয়ার পর নিতান্তপক্ষেই ভাষার সে সনাতন মূল্যসীমা কোনো সুশীল আশঙ্কার মধ্যেই পড়ে না। বৈশ্বিকতার আঘাতে (সম্পূর্ণ…)

বনের খবর ও রায় পরিবার

‘বনের খবর’ বাংলা সাহিত্যে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে রচিত এক অসামান্য স্মৃতিকথা। তাও বন-অরণ্যে ও মরুভূমি-প্রায় অঞ্চলে জরিপকালীন সময়ের। এ রকম লোমহর্ষক ও আনন্দ-বেদনা-দায়ক বই পড়ার সুখ কি ভোলা যায়! পাবর্ত্য চট্টগ্রাম, বার্মা, আসামের বন ও নিবিড় অরণ্যের আলেখ্য ও তাদের জীবনাচরণ দিয়ে পাঠককে নেশাগ্রস্ত স্বপ্ননবিলাসী করে তোলার বই। সেই সঙ্গে ১৯০৪-১৯০৫ সাল পর্যন্ত বেলুচিস্তানের অরণ্যহীন বালি-পাথুরে ভূমিপুত্রদের কঠোর জীবন ও শীতের দেখা পাই। প্রমদারঞ্জন রায়ের সার্ভেয়ার জীবনে দেখা এই ১৮৯৯ থেকে ১৯২০ সালের রূপকথার মতো গভীর অরণ্য বাংলা সাহিত্যের কোনো বইতে আমার পড়ার সুযোগ হয়নি। সেই অরণ্যও মানুষের (সম্পূর্ণ…)

কাটা জিভের উচ্চারণ

সাধারণত যে-কোনো কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতাটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কবির বিশেষ বিবেচনা থাকে, যদি ধরি এ-বইয়ের ক্ষেত্রেও শেলী নাজের কাব্যগ্রন্থ ‘সুচের ওপর হাঁটি’; তাই হয়েছে, তবু বলব, এর বক্তব্যই এ-বইয়ের মূল প্রবণতার প্রতিনিধিত্ব করে না; কিন্তু স্বীকার না করে উপায় নেই যে, বইয়ে এই প্রবণতাই গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। বইয়ের প্রথম কবিতা ‘মাংসাশী’তে রয়েছে এক নারকীয় শহরের বর্ণনা, যেখানে শহর নিজেই ক্ষুধার্ত, মাংসাশী, আদিম, সবুজ রোমশে ভরা যার টালিছাদ, যার রাস্তা, শপিংমল, মাথার উপরের চাঁদ, হা-করা দরোজা, গলি, (সম্পূর্ণ…)