বিভাগ: গল্প

সমবেদনা প্রকাশের অব্যবহিত পূর্বে  

পরবর্তী গল্পগ্রন্থের জন্য গল্প বাছাই করতে গিয়ে থমকে দাঁড়াতে হলো। অর্ধেক গল্পই প্রথম পুরুষে লেখা। অর্থ হচ্ছে, এগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রেই আত্মজৈবনিক ব্যাপার-স্যাপার ফ্যাক্ট অথবা ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে যা হোক কিছু একটা ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু কথা হচ্ছে,আমি এটা থেকে বের হতে চাই। অর্থাৎ এই যে, প্রায় প্রতিটি জায়গায় অবধারিতভাবে এখানেও আমি আমার গল্প বলেই শুরু করে দিলাম মনে মনে যা বলব বলে ভেবেছিলাম। অর্থাৎ নিজের সাথে একটা জোর চুক্তি সম্পাদন করতে চাচ্ছি এই শর্তসাপেক্ষে যে, এখন থেকে কিছুদিনের জন্য তোমার এই তুমিবিষয়ক গল্প-টল্প বাদ দাও। এখন গণ-মানুষের কথা বলো,অর্থাৎ আম-জনতার যাদেরকে এই জেনারেশন ডাকে ম্যাঙ্গো-পিপল। তাদের কথা বলো। তোমার বুঝতে অসুবিধা হলে ভেঙেই বলি, তুমি তৃতীয় পক্ষের কথা বলো। (সম্পূর্ণ…)

‘পুরানো লোকজন’ উইলিয়াম ফকনার

অবশেষে এল সেই মুহূর্তটি। সে ট্রিগার টেনে ধরল আর স্যাম ফাদার্স সেই উষ্ণ রক্ত মাখিয়ে দিল তার মুখে এবং সে আর বালক রইল না, রূপান্তরিত হলো একজন শিকারি এবং একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষে। এটিই ছিল সর্বশেষ দিন। সেদিন বিকেলেই ক্যামন গুটিয়ে নিল তারা বেং বেরিয়ে গড়ল সেখানে থেকে। ম্যাককাসলিন, মেজর দ্য স্পেন, জেনারেল কম্পসন ও বুন অশ্বপৃষ্ঠে, ওয়াল্টার ইউয়েল এবং নিগ্রোরা তার সাথে ওয়াগনে এবং সেই সঙ্গে স্যাম, তার চামড়া ও হরিণের শিংগুলো সহ। ওয়াগনে অন্যান্য ট্রফিও থাকতে পারত এবং তা ছিলও। কিন্তু ওর কাছে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। কেবল বাস্তব কারণেই সে এবং স্যাম ফাদার্স ছিল অনেকটা একসাথে যেমনটি ছিল তারা সকাল থেকেই। ওয়াগন চলছিল উঁচু নিচু এবড়ো-থেবড়ো পথ ধরে-দুপাশে ঘন বৃক্ষরাজির দেয়াল, (সম্পূর্ণ…)

ঢোঁড়া সাপ

Tahmina Shamiতখনও গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ ঢুকে নি, বউ-ঝিরা গতরাতের কালি মুছে কেরোসিনের হারিকেনে সাঁঝবাতি দেয়, স্নিগ্ধ অথচ বুনো স্বভাবী ঝোপ জঙ্গলগুলো ফুলে-ফলে তরতাজা, কাঁঠাল  গাছ  কোটরবাসীদের অভয়ারণ্য।

এরশাদ স্বরচিত গানের রেকর্ড বাজিয়ে গামবুট পড়ে দলবলসমেত বন্যার পানি দাপিয়ে ছবি তুলে বেড়ালেন- সেই স্মৃতি তখনো টাটকা, দেশের মানুষ চেটেপুটে একটিই সরকারি চ্যানেলের যাবতীয় অনুষ্ঠান থেকে রস সংগ্রহ করে, সেই সময়ের কথা। (সম্পূর্ণ…)

ভাঙনের শব্দ

আজ ওরা চারজন ভীষণ ভারাক্রান্ত। দুজন খুবই ক্রুদ্ধ, দুজন প্রতিবাদী। দুজন ড্রইংরুমে বসে আছে, দুজন শোবার ঘরে। বাড়িটা বাবা-মায়ের।

শায়লা দেখতে পায় বড়ভাই ফয়সল পেছনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনবরত সিগারেট ফুঁকছে। চেহারার ক্রুদ্ধ ভাব এখনো কাটেনি। (সম্পূর্ণ…)

আমি তারে পারি না এড়াতে

রাতে অফিস থেকে ফিরে দরজার তালাটা খুলে বাসায় ঢুকতে গিয়ে মনে হলো, একটা কালো কবরের গহ্বরে ঢুকলাম। ঘর জুড়ে মাটির তলার মতো অন্ধ স্তব্ধ নীরব অন্ধকার। সন্ধ্যা বাতিটি জ্বালাবার পর্যন্ত কেউ নেই। সুইচ বোর্ডে আঙুল দেই, আলো জ্বলে, ‘আলো যদি নিভে যায় সময়ের ফুঁয়ে, তাহলে কাহার ক্ষতি, কাহার ক্ষতি হবে?’ জীবনানন্দ দাসের মতো করে নিজেকে প্রশ্ন করি। আবার নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিই, ‘হবে নাকো কাহারো সামান্য ক্ষতি ।’ (সম্পূর্ণ…)