বিভাগ: গল্প

নির্ণেয় উত্তর : লাবু = লতা = সাপ

 

কালো বোর্ডের ওপর সাদা চক দিয়ে সাজদার মাষ্টার লিখলেন, নির্নেয় উত্তর : লাবু = লতা = সাপ। এরপর ছাত্রছাত্রীদের দিকে তাকিয়ে এমন একটা হাসি দিলেন; পর্তুগীজ জলদস্যু কলম্বাস উত্তমাশা অন্তরীপে পৌঁছেও এমন হাসি হেসেছিলেন কীনা সন্দেহ!

অদ্ভুত এক মানুষ সাজদার মাস্টার, যার কোনটাই ঠিক অংকের স্যারদের সঙ্গে যায় না। নিয়মিত পাঠদানের বাইরে হঠাৎ হঠাৎ ভূতুড়ে সব কান্ড করেন। যা হয়তো বাংলার স্যার হলে অতটা ধর্তব্যের মধ্যে পড়তনা, যতটা সাজদার মাস্টারের ক্ষেত্রে পড়ে। একে তো তিনি অংকের শিক্ষক তারপর এমন সব কান্ড করেন,যা প্রসাদগুণে বেশ আলোচিত ও উপভোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেকটা স্কুলে একজন ছিটগ্রস্ত শিক্ষক থাকেন, প্রত্যেকটা গ্রামে একটা ভূতের গল্প থাকার মতোই বিষয়টা নাকি অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। অস্বাভাবিক হলো কাচারিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছিটগ্রস্ত শিক্ষকের কোটাটা পূরণ করেছেন অংকের শিক্ষক সাজদার হোসেন বিএসসিবিএড ওরফে পাগলা সাজদার। (সম্পূর্ণ…)

বিড়ালদের শহর : হারুকি মুরাকামি

 

হারুকি মুরাকামির জন্ম ১৯৪৯ সালে, জাপানের কিওতো শহরে। টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি নাটক বিষয়ে পড়াশুনা করেন। পড়াশুনা শেষ করে তিনি একটি জ্যাজ বার খোলেন টোকিওতে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী, ইয়োকো মিলে পরিচালনা করেন এই বার। গল্প উপন্যাসের পাশাপাশি মুরাকামি নন-ফিকশনও লিখেছেন। এছাড়া তিনি একজন দৌড়বিদও, অংশ নিয়েছেন ম্যারাথন দৌড়ে। মুরাকামির গ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে: এখানে বাতাস গান গায় (১৯৭৯), পিনবল ১৯৭৩ (১৯৮০), বুনো ভেড়ার মৃগয়া (১৯৮২), নরওয়েজীয় অরণ্য (১৯৮৭), নাচো নাচো নাচো (১৯৯৭), সীমান্তের দক্ষিণ, সূর্যের পশ্চিম (২০০০), স্পূটনিক সুইটহার্ট (২০০১), সৈকতে কাফকা (২০০৫), ১কিউ৮৪ (২০১১) ইত্যাদি। যেসব পুরস্কার পেয়েছেন: গাঞ্জো পুরস্কার (১৯৭৯), নোমা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২), তানিজাকি পুরস্কার (১৯৮৫), ইয়োমিউরি পুরস্কার (১৯৯৫), ওয়ার্ল্ড ফ্যান্টাসি পুরস্কার (২০০৬), ফ্রাঙ্ক ও’কননর আন্তর্জাতিক ছোটগল্প পুরস্কার।
(সম্পূর্ণ…)

এক সৈনিকের বাড়ি ফেরা : আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

বিশ্বযুদ্ধ ও হেমিংওয়ে :

আমেরিকান সাহিত্যে হেমিংওয়ের মতো করে যুদ্ধকে আর কেউ উঠিয়ে আনতে পারেননি। গোটাবিশে^ ওয়ার রাইটিংস বা যুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যকর্মের প্রসঙ্গ উঠলেই চলে আসে এই নোবেলজয়ী মার্কিন কথাসাহিত্যিকের কথা। তাঁর সাহিত্যে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও যুদ্ধপরবর্তী নিসঙ্গতা বা হতাশার কথা যেভাবে এসেছে তিনি নিজে যুদ্ধসৈনিক না হলে হয়ত সেভাবে আসতে না। ব্যক্তিজীবনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাংবাদিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধচলাকালে হেমিংওয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র। ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। জার্মান এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষ জোটে শরিক হয়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে হেমিংওয়ে আর্মিতে নিজের নাম লেখানোর চেষ্টা চালান; কিন্তু বাম চোখে সমস্যা থাকার কারণে বাদ পড়ে যান। যখন তিনি জানতে পারেন যে, রেডক্রস স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নিচ্ছে, তিনি দ্রুত নিজের নাম লেখান। তিনি কানসাস শহরে কাজ করেন। এই শহরের কথা বর্তমান গল্পে উল্লেখ আছে। যুদ্ধচলাকালে ‘স্টার’ নামক সংবাদপত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতায় পরবর্তীতে ফিকশন লেখার ক্ষেত্রে হেমিংওয়ের জন্যে বড় সম্পদ হয়ে দাঁড়ায়। ছোট ছোট বাক্য, সংক্ষিপ্ত কার্যকরী বয়ান, অতিকথন বর্জন- এগুলো তিনি সংবাদমাধ্যমে কাজ করতে করতে আয়ত্তে আনেন। (সম্পূর্ণ…)

 বৃষ্টিভেজা রাতের গাড়ি ও বুটের শব্দ

এখনও কোনো গাড়ি গভীর রাতে বাড়ির গেটে থামলে আঁতকে ওঠেন ফিরোজ। গেটে এসে পড়া গাড়ির আলোকে মনে হয়- একটা রাক্ষুসে দানবের দুটো জ্বল জ্বলে চোখ। আর এক্ষুনি গাড়ি থেকে নামবে ক্যাপ্টেন আর সিপাহিরা। তাদের বুটের শব্দ রাতের নীরবতার ভেতরে বেজে উঠবে। গাড়ি থেকে নামবে একটা কফিন। আর একটু পরে বলবে, ইয়ে লোগ গাদ্দার।

এখন আর সেই বাড়ি নেই। পুরো বাড়িটা গায়েব হয়ে অন্য বাড়ি। এটা আর বাড়ি তো নয়, অ্যাপার্টমেন্ট। তিনি দোতলার সামনে দিকে একটা ফ্ল্যাটে থাকেন। আশেপাশে কোনো বাড়ি আর আগের মতো নেই। (সম্পূর্ণ…)

লাশের শকট

মাধনগরের হাটে গরু বেচতে আসা লোকটার মাথায় বাজ পড়ে মরার পরে অনেকক্ষণ লোকজন আহা-উহু করলেও শেষপর্যন্ত মেকু চৌকিদারের কাঁধেই দায়িত্ব বর্তায় লাশটাকে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেবার। এই দায়িত্ব যে তার ওপরেই বর্তাবে সেটা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরে মেকু চেষ্টা করছিল ভিড় ছেড়ে কেটে পড়ার। কিন্তু ততক্ষণে পরিষদের চেয়ারম্যান এসে গেছে। সে যেখানে যাবে সেখানে দায়িত্বরত কারো ঠাঁইনাড়া হবার উপায় থাকে না। কাজেই মনে মনে যতই কেটে পড়ার ইচ্ছা থাকুক, হাট ছেড়ে চলে যাওয়ার সাহস পায় নি মেকু। হাট কম্পানির লোকদের নিয়ে মসজিদের মধ্যে কিছুক্ষণ মিটিং করে চেয়ারম্যান মেকুকে ডাকতে পাঠায়। অজু ছাড়া মসজিদে ঢুকবে কি না তা নিয়ে ইতস্তত করতে করতে কিছুটা সময় চলে গেলে চেয়ারম্যানের হুঙ্কার ভেসে আসে- ওই শালা আমড়া কাঠের ঢেঁকি! তোর পায়ে কি গোঁদ হইছে? আসতে এত সময় লাগে কীজন্যে?

(সম্পূর্ণ…)