অরণ্যের উদর হতে

Facebook Twitter Email

১.

নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি…

জলরন্ধ্রে ধনুক বেঁকে যাচ্ছে…

তরুণ কবিদের ধনুক ও মেরুদ- বেঁকে যাচ্ছে জলে…

নদীতে হেলান দিয়ে বসে আছি…

 

বেহুলা চন্দনীর ঘাটে

আমার শৈশব কতোইনা মাড়িয়েছে ফাঁস-লাগা নিমের ছায়া

নিদ্রা ভেঙে দেখি- আর আমি একখ- মানুষ নই

হয়ে গেছি স্বপ্ন-রাঙা সবুজ ফড়িং…

 

বাতাসে সাঁতার কাটি

দাউ দাউ রক্ত কণিকা নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে

শীতল ক্ষুরের দিকে।

এতো মৃত্যু

এতো এতো চন্দ্রভোর চারিদিকে

পবনপুত্রীরা ঘন-শ্যাম চামড়ার শাল পরে আছে

 

আপনার ছায়া ঢেকে দিচ্ছি ধীরে

ঈশ্বরের আরশ ঢেকে দিচ্ছি ধীরে…

 

২.

মূর্তিমান মানুষ তৈরি করছি

মানুষ কোথাও তো নেই

মানুষ তৈরি করছি নদীতীরে।

 

রজনীর দীর্ঘ দর্শক আমি, পরস্পর হত্যাদৃশ্যে

ঘাড়ের নীচ হতে কতো না উজ্জ্বল কবুতর উড়িয়েছি

বহু জন্ম কীট হয়ে আছি

গলে-পড়া শবের দেশে…

 

একপাল পূর্ণিমার ভেড়া বাতাস ভ্রমণে বেরিয়েছে

তুমি কি জন্মান্তর বরণ করছো অতলান্ত প্রেমে

নিশিথ বীজের ভেতর নিশিথ অন্ধকারে!

 

তুমি কেটে দাও গর্ভবতী মেঘের জঠর

স্মৃতিতে অনেক কান্না জমে আছে

এতো এতো কান্না জমে আছে।

 

আমার পোষে রাখো তুমি…

সেই অরণ্যতাড়িত সাপ

আমায় পোষে রাখো দুধের নহরে

দহনে ও ঘৃণায়।

 

ঐ উপত্যকা হতে জমে-থাকা বিষ ও দংশন নিয়ে এসেছি আমি

ফেরাবে কী করে

 

…আর কোনো মানুষ নয়, সজ্ঞানে সৃষ্টি করি সাপ

সাপিনী, সাপিনী…

 

Facebook Twitter Email