হাইকুগুচ্ছ

Facebook Twitter Email

3আসাদ চৌধুরী অনূদিত 

 হাইকু, বলার অপেক্ষা রাখে না, জাপানের সীমানা অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছে। রবীন্দ্রনাথের কল্যাণেই প্রথম কিছু বঙ্গানুবাদের স্বাদ বাংলা বর্ণমালায় আমরা শিখেছিলাম, এরপর অনেকেই বাংলায় তর্জমা করেছেন। হাইকুর গ্রেট মাস্টার বলতে বোঝায় মাৎসুও বাশো (১৬৪৮-১৬৯৪) ইয়োসা বুলন (১৭১১-১৭৮৩) এবং কোবায়শী ইসা (১৭৬৩-১৮২৭) কবিত্রয়কে, তবে, এখানকার পাঠকের কাছে মাসাউকা শিকির হাইকু বোধহয় অধিক প্রিয় হয়ে উঠছে।

মাৎসুও বাশোর কয়েকটি হাইকুর অনুবাদ এখানে উপস্থিত করছি। বাশোর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ১৯৯৮ থেকে, রবার্ট হাসের দ্যা এসেনশিয়েল হাইকু গ্রন্থের মাধ্যমে। এরপরেও কেনেথ রেক্সফোর্থ, উকা মাকাতো এদের গ্রন্থের মাধ্যমে।

 

জাপানের উইগা উইশেতে জন্ম। আজীবন শুদ্ধ সাহিত্যের সাধনা করেছেন। জেন চর্চায় উৎসাহী ছিলেন। গৃহহীন সন্ন্যাসীর মতো বসবাস করেছেন। পায়ের নীচে সর্ষে ছিল, প্রচুর ঘুরেছেন। চীনের টাং বংশের কবিদের ব্যাপারে বিশেষ করে লি পো, পেং ছুং-ই-র কবিতার গুণগ্রাহী পাঠক- এবং সম্ভবত অনুকারী।

কবিতা পড়িয়েছেন বেশ কয়েকবার, আবার সব ছেড়েছুড়ে সন্ন্যাসীর মতো ঘোরাঘুরি। তৃতীয়বারের মতো বাসস্থান পরিবর্তন, ১৬৯৩-তে ভাস্তে তো-নি সারা গেল, বিধবা স্ত্রী সুইতির দায়িত্ব গ্রহণ। ১৬৯৩ দু মাস তিনি নিজে স্বেচ্ছা-গৃহবন্দীর জীবনযাপন বেছে নিলেন। জুনের ৩, (১৬৯৪) আবার ঘর ছাড়লেন। অক্টোবরে ওসাকায় পুরোনো ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করলেন। নভেম্বরের গোড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, শেষের দিকে মারা যান (১৬৯৪)।

 

১.

শীতের সূর্য

ঘোড়ার পিঠে-

    আমার জমে যাওয়া ছায়া।

 

২.

প্রথম শীতের বৃষ্টি-

এমন কী বাঁদরেরও

    যেন বর্ষাতির প্রয়োজন।

 

৩.

মানুষের বিষণ্ণতা নয়,

কোকিল

তোমার একাকী রোদন।

 

৪.

এই হেমন্তে

আমি কেন বুড়িয়ে যাচ্ছি?

পাখি লুকোয় মেঘের আড়ে।

Facebook Twitter Email