আমার একটি স্বপ্ন আছে

Facebook Twitter Email

মার্টিন লুথার কিং

ওয়াশিংটন ডি সি, ২৮ আগস্ট ১৯৬৩

I have a dream

১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে যখন আমেরিকাজুড়ে আব্রাহাম লিংকনের ‘বন্ধনমুক্তি ঘোষণার’ শতবর্ষ পালিত হচ্ছে, ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল’ তখন ‘তেষট্টির মধ্যে মুক্তি’ স্লোগান নিয়ে কালো আমেরিকানদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করে এক ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ ডেমানস্ট্রেশন হয় আলাবামার বার্হিংহামে [এখানে কিং (১৯২৯-৬৮) সিটি হলের দিকে এক মিছিলে নেতৃত্ব দেন এবং দু দুবার কারাবরণ করেন। তবে এখানেই আন্দোলনের পক্ষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাজ হয়] এবং সেলমাতে। সেলমাতে মন্টগোমারি অভিমুখে অগ্রসরমাণ এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে বক্তৃতা করেন কিং এবং র‌্যালফ বাঞ্চ। তখন পর্যন্ত র‌্যালফ বাঞ্চ ছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান।

 

এরপর কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান নেতাদের পুরোধা ফিলিপ র‌্যান্ডলফ চাকরিবাকরি এবং স্বাধীনতার দাবি তুলে ওয়াশিংটন অভিমুখে একটি মিছিল পরিচালনার প্রস্তাব দেন। কিং পরে লিখেছিলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে এত বিশাল সমাবেশ এর আগে কখনো হয় নি। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য অনেকেই সেখানে ছিলেন, তাদের ভয় ছিল উচ্ছৃঙ্খলতার সামান্য ঘটনাও কংগ্রেসকে বিরূপ করবে এবং আইনি বিচারের সব সম্ভাবনাই নষ্ট হয়ে যাবে।’

 

তবু সেই আগস্ট মাসে দুই লাখ দশ হাজার মানুষ সেদিন ওয়াশিংটন মনুমেন্টে সমবেত হয়ে লিংকন মেমোরিয়ালের দিকে মিছিল নিয়ে গিয়েছিলেন। সেদিনের শীর্ষ ঘটনাই ছিল কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের কণ্ঠস্বর মার্টিন লুথার কিং-এর বক্তৃতা। এই বক্তৃতা তিনি আগের রাতে নিজের হাতে লিখেছিলেন এবং রাত চারটায় লিখে শেষ করেছিলেন।

মিছিলের সেই বিশাল জনতার সামনে দাঁড়িয়ে কিং এবার সেই যুগান্তকারী, সময়োপযোগী, প্রয়োজনীয় এবং নাটকীয় কাজটা করলেন। অনুসারীদের শতাব্দী অন্যতম শ্রেষ্ঠ বক্তৃতাটা শোনালেন। যে দক্ষতা এবং কুশলতার সঙ্গে তিনি তার মুখের ভাষাকে উদ্দেশ্য সাধনের বাহন করেছিলেন তাঁর প্রজন্মের কোনো জননেতাই সেই দক্ষতা ও বিচক্ষণতা কখনো আয়ত্ত করতে পারেন নি।]

 

যে মানুষের সাংকেতিক ছায়াতলে আমরা এখন দাঁড়িয়ে, সেই মহান আমেরিকান পাঁচ কুড়ি বছর আগে ‘বন্ধন-মুক্তির ঘোষণা’ স্বাক্ষর করেছিলেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আইন নিষ্ঠুর অবিচারের অনলে দগ্ধ লক্ষ লক্ষ নিগ্রো ক্রীতদাসের কাছে আশার আলোর মতো মনে হয়েছিল। বন্দিদশার দীর্ঘ রজনী শেষ করতে এই আইন এসেছিল আনন্দময় প্রভাতের মতো।

কিন্তু শতবছর পরেও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের হতে হচ্ছে যে নিগ্রোরা আজও মুক্ত হয় নি। নিগ্রো জীবন আজ দুঃখজনকভাবে নিগৃহীত, বৈষম্যের শৃঙ্খল আর পার্থক্যের হাতকড়া দিয়ে তাদের পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। শত বছর পরও নিগ্রোরা ব্যাপক বস্তুগত উন্নতির সুবিস্তৃত সাগরের মাঝখানে দারিদ্র্যের নিঃসঙ্গ দ্বীপে বাস করে। শত বছর পরে এখনো নিগ্রোরা আমেরিকান সমাজের এক কোনায় অসাড় নির্জীবের মতো পড়ে থাকে এবং নিজের মাটিতেই নিজেকে নির্বাসিত মনে করে। সুতরাং এক আতঙ্কজনক পরিস্থিতির নাটক মঞ্চায়নের জন্য আমরা আজ এখানে এসেছি।

 

বলতে গেলে, একটা চেক ভাঙাব বলে আজ আমরা আমাদের জাতির রাজধানীতে এসেছি। এই প্রজাতন্ত্রের স্থপতিরা যখন চমৎকার সব শব্দে এর সংবিধান এবং স্বাধীনতার ঘোষণা লিখেছিলেন তখন তারা একটি অর্থপ্রত্যর্পণ অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, অর্থপ্রত্যর্পণের সে অঙ্গীকারপত্রে প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের উত্তরাধিকার স্বীকৃত। এই প্রত্যর্পণপত্রই অঙ্গীকার করে যে প্রতিটি মানুষকে বৈষম্যহীন জীবনের অধিকার, স্বাধীনতা এবং সুখ-শান্তির নিশ্চয়তা দেয়া হবে।

 

এটা আজ সুস্পষ্ট যে, আমেরিকা সেই প্রত্যর্পণপত্রের অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে তার কৃষ্ণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে। এই পবিত্র দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে আমেরিকা কালো মানুষদের একটা ভুয়া চেক ধরিয়ে দিয়েছে; যে চেক ‘অপর্যাপ্ত তহবিলের’ কলঙ্ক নিয়ে ফিরে এসেছে তাদের কাছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি না যে সুবিচারের ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি না যে জাতির সম্ভাবনার সুমহান ভল্টে তহবিল অপর্যাপ্ত। সুতরাং আমরা সেই চেক আবার ভাঙাতে এসেছি- যে চেক চাহিবামাত্র আমাদের স্বাধীনতার ঐশ্বর্য দেবে, সুবিচারের নিরাপত্তা দেবে। এই পবিত্র স্থানে আমরা আরো এসেছি ‘এখন’ শব্দটির প্রচ- তাগিদ আমেরিকাকে মনে করিয়ে দেবার জন্য। ধীরে ধীরে স্তিমিত হতে দেবার মতো বিলাসিতার সময় এটা নয় অথবা ক্রমান্বয়বাদের স্বস্তির বড়ি খাবার সময়ও নয়।

 

এখনই প্রকৃত গণতন্ত্রের অঙ্গীকার করার সময়।

এখনই অন্ধকার এবং পৃথকবাসের জনহীন উপত্যকা থেকে জাতিগত সুবিচারের রৌদ্রকরোজ্জ্বল পথে বেরিয়ে আসার সময়।

এখনই ঈশ্বরের সন্তানদের জন্য সুযোগের সকল দরজা খুলে দেবার সময়।

এখনই জাতিগত অবিচারের চোরাবালি থেকে ভ্রাতৃত্বের কঠিন প্রস্তরভূমির ওপর আমাদের জাতিকে তুলে আনতে হবে। এই মুহূর্তের জরুরি কর্তব্যকে উপেক্ষা করলে কিংবা নিগ্রোদের দৃঢ়তাকে বুঝতে ভুল করলে জাতির মারাত্মক ক্ষতি হবে। নিগ্রোদের ন্যায্য অসন্তোষের তাপতাড়িত গ্রীষ্ম ততক্ষণ পর্যন্ত ফুরোবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সাম্য ও স্বাধীনতার তেজোদায়ী শরৎ না আসে। উনিশশো তেষট্টিই পথের শেষ নয়, কেবল শুরু। যারা আশা করেন যে বুকের বাতাস ফুরোলেই নিগ্রোরা চুপসে যাবে এবং ফুর্তিতে আবার আগের জায়গায় ফিরে যাবে, জাতি যদি এবারও বরাবরের মতো আচরণ করে তাহলে এবার তারা দুরন্ত কঠিন এক জাগরণ দেখতে পাবেন। নিগ্রোর নাগরিক অধিকার না দেওয়া হলে আমেকিার কোথাও স্বস্তি কিংবা থাকবে না। যতদিন পর্যন্ত সুবিচারের উজ্জ্বল দিন না আসবে ততদিন আমাদের জাতির ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে এ বিদ্রোহের ঘূর্ণি অব্যাহত থাকবে।

 

তবে ন্যায়বিচারের প্রাসাদে প্রবেশ করবেন বলে যারা দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন সেই মানুষদের কিছু কথা আমাকে বলতেই হবে। আমাদের ন্যায়সঙ্গত গন্তব্যে পৌঁছানোর যে প্রক্রিয়া সেখানে কোনো ভুল যেন না হয়। আমরা এমন কিছু করব না যাতে আমাদের অপরাধী হতে হয়। তিক্ততা এবং ঘৃণার পাত্র থেকে পান করে আমরা আমাদের স্বাধীনতার তৃষ্ণা মেটাতে চাই না। মর্যাদা এবং শৃঙ্খলার উচ্চতর পর্যায়ে থেকেই আমরা সবসময় আমাদের আন্দোলন পরিচালনা করব। আমাদের সৃজনশীল প্রতিবাদকে কখনো আমরা দৈহিক দাঙ্গার নিচুতর পর্যায়ে নামাব না। বারবার মহত্তর পর্যায়ে উঠে আমাদের আত্মার শক্তি দিয়ে দৈহিক শক্তিকে মোকাবলা করতে হবে। যে বিস্ময়কর নতুন সংগ্রাম প্রবণতা নিগ্রো সম্প্রদায়কে আজ উদ্বুদ্ধ করেছে তা যেন গোটা শ্বেতাঙ্গ জনমানুষকে অবিশ্বাস করতে না শেখায়। কারণ এখানে তাদের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে যে আমাদের অনেক শ্বেতাঙ্গ ভাই ও বন্ধু উপলব্ধি করছেন যে তাদের ভাগ্য আমাদের ভাগ্যের সঙ্গে বাধা, তাদের স্বাধীনতা অবিচ্ছেদ্যভাবে আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত। আমরা একা চলতে পারি না।

 

চলতে চলতে আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে যে আমরা সম্মুখে এগিয়ে যাব। আমরা পিছিয়ে আসতে পারি না। অনেকেই আছেন যারা নিবেদিত নাগরিক অধিকার কর্মীদের জিজ্ঞেস করেন,

 

‘কবে তোমরা তৃপ্ত হবে?’ আমরা কখনো তৃপ্ত হতে পারি না, যতদিন নিগ্রোরা অবর্ণনীয় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হবে ততদিন আমরা তৃপ্ত হতে পারি না। যতদিন আমাদের এই অবিরাম চলার ক্লান্ত শরীর মহাসড়কের পাশে কোনো মোটেল কিংবা নগরের কোনো হোটেলে আশ্রয় খুঁজে না পাবে ততদিন আমরা তৃপ্ত হতে পারি না। যতদিন নিগ্রোদের স্বাভাবিক চলাফেলা ক্ষুদ্র গ-ি ছাড়িয়ে বৃহত্তর ক্ষেত্রে সুগম না হবে ততদিন আমরা তৃপ্ত হতে পারি না। যতদিন মিসিসিপির নিগ্রো ভোটের অধিকার না পাবে এবং নিউইয়র্কের নিগ্রো বিশ্বাস করবে যে ভোট দেবার মতো তার কেউ নেই, ততদিন আমরা পরিতৃপ্ত হতে পারি না। না, না, আমরা তৃপ্ত নই এবং তৃপ্ত হব না যতদিন জলের মতো স্বাভাবিক গতিতে সুবিচার আর অদম্য ¯্রােতের মতো ন্যায়নীতি গড়িয়ে না আসে।

 

আপনাদের অনেককেই এখানে আসতে যে কী কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সে আমি বুঝতে পারি। কেউ কেউ কারাগারের ছোট্ট কুঠুরি থেকে সরাসরি এখানে চলে এসেছেন। কেউ কেউ এমন এলাকা থেকে এসেছেন যেখানে মুক্তির কথা বলতে গিয়ে আপনাদের কল্পনাতীত কষ্ট পেতে হয়েছে, নির্দয় পুলিশি নির্যাতনে বিপর্যস্ত হতে হয়েছে। বহুকাল ধরে আপনারা সৃষ্টির যন্ত্রণা সহ্য করে আসছেন। অনর্জিত কষ্টভোগ মুক্তির পথ দেখায়- এই কথায় বিশ্বাস রেখে কাজ করে যান।

 

অবস্থা এ রকম থাকবে না, কোনো না কোনোভাবে পরিবর্তন হবেই, জানবেন। আপনারা ফিরে যান মিসিসিপিতে, আলাবামাতে, দক্ষিণ ক্যারোলাইনাতে, ফিরে যান জর্জিয়াতে লুসিয়ানায় দক্ষিণের শহরে শহরে পাড়ায় পাড়ায় বস্তিতে বস্তিতে। হতাশার উপত্যকায় আর গড়াগড়ি নয়।

 

বন্ধুরা, আজকে আমি আপনাদের বলছি যে এই মুহূর্তের হাজার প্রতিবন্ধকতা এবং হতাশা সত্ত্বেও আমার একটা স্বপ্ন আছে। এই স্বপ্ন গভীরভাবে আমেরিকান স্বপ্নের ভেতরে প্রোথিত। আমার স্বপ্ন আছে যে এই জাতি একদিন ঠিকই উঠে দাঁড়াবে এবং প্রকৃত ধর্ম বিশ্বাসে জীবন যাপন করবে : এই সত্য স্বতঃসিদ্ধ বলে মনে করি; যে সৃষ্টির সব মানুষ সমান।

 

আমার স্বপ্ন এই যে, জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে ভূতপূর্ব ক্রীতদাসদের সন্তানেরা এবং দাস-প্রভুর সন্তানেরা একদিন ভ্রাতৃত্বের টেবিলে একত্রে বসতে সক্ষম হবে।

আমার স্বপ্ন এই যে, এমনকি মিসিসিপি, একটি মরু রাজ্য, যা কিনা এখন নির্যাতন এবং অবিচারের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে সেও একদিন মুক্তি এবং ন্যায়বিচারের মরূদ্যানে রূপান্তরিত হবে।

 

আমার স্বপ্ন যে ছোটো ছোটো চারটি সন্তান আমার একদিন এমন এক মহান জাতির অংশ হবে যেখানে চামড়ার বর্ণ তাদের পরিচয়ের মাপকাঠি হবে না, হবে চরিত্রের বল।

আমার স্বপ্ন এই যে আলাবামা রাজ্য, যে রাজ্যের গভর্নরের মুখ থেকে এখন শুধু বাতিল করা এবং প্রতিবন্ধকতার কথাই ঝরছে, একদিন সেখানেও এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হবে যে ছোটো ছোটো কৃষ্ণাঙ্গ ছেলেমেয়ে ছোটো ছোটো শ্বেতাঙ্গ ছেলেমেয়ের হাতে হাত রেখে ভাইবোনের  মতো একত্রে হাঁটতে সক্ষম হবে।

 

আজ আমার একটা স্বপ্ন আছে।

আমার স্বপ্ন প্রত্যেকটি উপত্যকা একদিন সমুন্নত হবে, মহিমান্বিত হবে। প্রত্যেক পাহাড় পর্বত অবনত হবে, উঁচু নীচু দুর্গম ভূমি সমতল হয়ে যাবে, আঁকাবাঁকা বন্ধুর পথ সরল হয়ে যাবে এবং ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশিত হবে আর রক্তমাংসের মানুষ সেসব প্রত্যক্ষ করবে।

এই আমাদের আশা। আর এই বিশ্বাস নিয়েই আমি দক্ষিণে ফিরে যাব। এই বিশ্বাসে ভর করেই আমরা দুরাশার পর্বত থেকে আশার একখ- পাথর বের করে আনতে সক্ষম হব। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা আমাদের জাতির উৎকট ঝগড়া-বিবাদকে ভ্রাতৃত্বের শ্রুতিমধুর সিম্ফনিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হব। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা একত্রে কাজ করতে, একত্রে প্রার্থনা করতে, একত্রে আন্দোলন করতে, একত্রে জেলে যেতে, স্বাধীনতার জন্য একত্রে দাঁড়াতে সক্ষম হব। আমরা জানি এইভাবেই একদিন আমরা মুক্ত হব।

এইদিন হবে সেইদিন যখন ঈশ্বরের সন্তানেরা নতুন ভাবনায় গেয়ে উঠতে সক্ষম হবে-

 

দেশ আমার, তোমারই,

মধুময় মুক্ত দেশ,

তোমারই গান আমি গাই;

যে মাটিতে আমার পূর্বপুরুষ,

তীর্থযাত্রীর গর্ব যে মাটি,

প্রতিটি পর্বতের প্রতিটি কোনা থেকে

বেজে উঠুক মুক্তির আনন্দ ধ্বনি

 

এবং আমেরিকাকে যদি একটি মহান জাতিতে পরিণত হতে হয় তবে এই মন্ত্রের বাস্তবায়ন হতেই হবে। সুতরাং নিউ হ্যাম্পশায়ারের পাহাড়চূড়া থেকে বেজে উঠতে দাও মুক্তির আনন্দ ধ্বনি। নিউইয়র্কের সুউচ্চ পর্বত থেকে স্বাধীনতাকে বেজে উঠতে দাও। পেনসিলভানিয়ার সমুন্নত আলেগেনিস থেকে স্বাধীনতাকে বেজে উঠতে দাও!

কলোরাডোর বরফঢাকা প্রস্তর থেকে স্বাধীনতাকে বেজে উঠতে দাও।

ক্যালিফোর্নিয়ার বক্রশৃঙ্গ থেকে স্বাধীনতাকে বেজে উঠতে দাও!

শুধু তাই নয়; জর্জিয়ার শিলা পর্বত থেকে স্বাধীনতাকে বেজে উঠতে দাও!

টেনিসির লুকআউট পর্বত থেকে স্বাধীনতাকে বেজে উঠতে দাও!

মিসিসিপির প্রতিটি পাহাড় ও ঢিবি থেকে স্বাধীনতাকে বেজে উঠতে দাও। প্রতিটি পাহাড়ের কোনা থেকে বেজে উঠতে দাও স্বাধীনতাকে।

 

স্বাধীনতাকে যখন আমরা বেজে উঠতে দেব, বেজে উঠতে দেব যখন প্রতিটি গ্রাম উপগ্রাম  থেকে, প্রতিটি রাজ্য নগর, মহানগর থেকে তখনই আমরা সেই দিনকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হব যখন ঈশ্বরের সকল সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ এবং শ্বেতাঙ্গ, ইহুদি এবং অইহুদি, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিক, সবাই হাতে হাত রেখে প্রাচীন নিগ্রো আধ্যাত্মিক শব্দে গাইবে, ‘মুক্ত অবশেষে! ধন্য ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, আমরা মুক্ত অবশেষে!’

 

[আমেরিকার অন্যতম সেরা সাংবাদিক জেমস রেস্টন এই বক্তৃতাকে ‘আমেরিকার সব প্রাচীন সংস্কারকদের যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি বলে বর্ণনা করেছেন’- রজার উইলিয়মসের ধর্মীয় স্বাধীনতার ডাক থেকে শুরু করে সাম অ্যাডামসের রাজনৈতিক স্বাধীনতার ডাক, থোরোর দমননীতির বিরোধিতা, লয়েড গ্যারিসনের মুক্তির ডাক এবং ইউজিন ভি ডেবসের অর্থনৈতিক সাম্যের ডাক পর্যন্ত। কিং-এর এই বক্তৃতায় সকলের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়।

 

টাইম পত্রিকার মতে, ১৯৬৩ সালের ‘বৎসরের সেরা মানব’ হয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং। এবং ১৯৬৪ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নাগরিক অধিকার আইন প্রবর্তনের সূচনা করেন এবং ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন তাকে বিধিবদ্ধ আইনে রূপান্তর করেন। ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল টেনেসির মেমফিসে নাগরিক অধিকারের এক অভিযাত্রায় তিনি নিহত হন।]

 

Facebook Twitter Email